
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ থেকে ঘর থেকে সংসদে নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, ৩৩ শতাংশ নারী আইন-প্রণেতা নিশ্চিত করা, ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে সুলভে মানসম্পন্ন ডে-কেয়ার সেবা চালু, প্রাথমিকে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক পুনর্বহাল, স্কুলগামী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক দামে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ এবং যৌন নিপীড়ন-বিরোধী আইন বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
নারী সংহতির সভাপতি ড. শ্যামলী শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনটির জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মী-সংগঠকদের পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, নারী অধিকার সংগঠন, কিষাণী সভা, ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকরা।
সমাবেশে নারী সংহতির পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে মূল বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ।
তিনি বলেন, চটকদার পরিসংখ্যান দিয়ে বাংলাদেশে নারীর বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরির মাধ্যমে পুরুষতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই নারী সংহতি সুনির্দিষ্ট পাঁচটি দাবি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে নামছে।
সমাবেশে নারী সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, নারী সংহতির পাঁচ দফা শুধু নারীর সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, এগুলোর বাস্তবায়নের সঙ্গে বৃহত্তর সমাজ ও অর্থনীতির স্বার্থও গভীরভাবে জড়িত।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নারীর নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত। তাই পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলনে নারী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিকেও সমান ভূমিকা রাখতে হবে।
নারী সংহতির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাসরিন সুমির সঞ্চালনায় সমাবেশে গান পরিবেশন করেন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়ারদা আশরাফ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, বিআইজিডির গবেষক মাহিন সুলতান, কিষাণী সভার কেন্দ্রীয় সদস্য নাজমা বেগম, শৈশবের প্রতিষ্ঠাতা ফারহানা মান্নান, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সদস্য আকলিমা আক্তার এবং ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মনির উদ্দিন পাপ্পু, হাসান মারুফ রুমী, মাহরুখ মহিউদ্দিন, নাদিরা ইয়াসমিন, সীমা দাস সিমা, নাহিদা জাহানসহ বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।