
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়কের রবীন্দ্র স্মরণী বাইপাস এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ঝাড়ু ও জুতা। এ সময় তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে উপজেলার টায়াগছ এলাকায় প্রতিবেশী এক ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সানোয়ার হোসেন নামে এক বৃদ্ধ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও থানায় মামলা না করে একটি মহল ভুক্তভোগী পরিবারকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে আপোষ করিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে বিষয়টি আপোষ করার অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য তুলে পোস্ট দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তদের বিচার এবং কথিত আপোষের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান ও ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী শিশুর দাদা আব্দুল আজিজ গত শনিবার দুপুরের দিকে বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়াকে বিচার দিয়েছি, উনি যা করে তাই। আমরা কিছুই বলতে পারবো না।’ আপোষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের পারিবারিক ব্যাপার।’
এ বিষয়ে স্থানীয় মানিক তালুকদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দাবি করেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় সুলতানা রাজিয়া ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় সুলতানা রাজিয়ার বিচারের দাবি জানান।
তবে আপোষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়া। তিনি জানান, তিনি আপোষের ঘটনায় জড়িত নন এবং বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।