মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে দোষীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ শিক্ষকদের সম্মান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক, কবি ও কলাম লেখক লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া ন্যায়বিচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সুরক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তাঁর সম্মান ও ন্যায্য বিচারের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একটি সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ গ্রহণের জন্য নয়, নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, জ্ঞান অর্জন এবং নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হলে শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি তার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ভয়, লজ্জা, মানসিক আঘাত ও শিক্ষার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ যাচাই ছাড়াই কোনো শিক্ষককে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তাঁর সামাজিক মর্যাদা, জীবিকা ও পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর সুরক্ষা ও প্রতিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াও প্রয়োজন। তবে এই ভারসাম্যের অজুহাতে কোনো অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। একইভাবে জনরোষকে বিচারের বিকল্প হিসেবেও গ্রহণ করা উচিত নয়।
বাংলাদেশে শিশুদের সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোর কথা উল্লেখ করে লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল বলেন, শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারায় শিশুর দায়িত্বে বা পরিচর্যায় থাকা ব্যক্তির আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা কিংবা পরিত্যাগের কারণে শিশুর অহেতুক দুর্ভোগ বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে শাস্তির বিধান রয়েছে। ঘটনার ধরন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রযোজ্য আইন এবং শাস্তি নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নির্দেশনার আওতায় মাদ্রাসাও রয়েছে। ফলে বেত্রাঘাত, চড়-থাপ্পড় কিংবা অপমানজনক আচরণকে শিক্ষাদানের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে প্রথমেই তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান, নির্ভরযোগ্য অভিভাবক বা সহায়তাকারীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা এবং শিশুর বক্তব্য নির্ভয়ে শোনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সাক্ষ্য, নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে তদন্ত যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যায়।
প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার অজুহাতে অভিযোগকারীকে অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া, ঘটনাকে সাধারণ শাসন হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শিক্ষার্থীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে বহাল রাখা তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে প্রয়োজন অনুসারে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীর সরাসরি তত্ত্বাবধান থেকে সরিয়ে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা হতে হবে অস্থায়ী, লিখিত ও পর্যালোচনাযোগ্য। একই সঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।
তদন্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান পরিচালনাগতভাবে প্রয়োজনীয় হলেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগে সেটিই একমাত্র তদন্তের মাধ্যম হওয়া উচিত নয়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অভিভাবক, প্রত্যক্ষদর্শী, সহপাঠী, চিকিৎসক এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের পাশাপাশি সময়, স্থান, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। শিশুকে বারবার একই ঘটনা বলতে বাধ্য না করে তার বয়স ও মানসিক অবস্থার উপযোগী পদ্ধতিতে বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার কিংবা জনশ্রুতিকে তদন্তের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির মৌখিক অস্বীকৃতির ভিত্তিতেও অভিযোগ খারিজ করা উচিত নয়। তদন্তকারী, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর ওপর যেন কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনগত ও চাকরিসংক্রান্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদ, পরিচিতি, ধর্মীয় মর্যাদা কিংবা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রভাব যেন দায়মুক্তির কারণ না হয়। দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার স্পষ্ট করা সম্ভব।
অন্যদিকে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সুনাম ও ন্যায্য প্রতিকারের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া এবং অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। এ দুটি অবস্থাকে এক করে দেখলে প্রকৃত নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হতে পারে।
নিরপরাধ শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের আশ্রয় ও আইনানুগ আচরণের অধিকার সবার জন্য স্বীকৃত। একই সঙ্গে ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম ও সম্পত্তির বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অভিযোগের যথাযথ যাচাই, অভিযুক্তের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল। তাঁর মতে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকা উচিত। অভিযোগ কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাঁরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা অভিযুক্ত ব্যক্তির একক নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবেন। সম্ভব হলে কমিটিতে নারী প্রতিনিধি, শিশু সুরক্ষায় অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং অভিভাবক প্রতিনিধি রাখতে হবে।
অভিযোগ গ্রহণ, তদন্তের সময়সীমা, গোপনীয়তা রক্ষা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পদ্ধতি লিখিতভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যেন সহজেই জানতে পারে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কীভাবে তাদের বক্তব্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। সাধারণ শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে পৃথক ও উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করাও জরুরি।
ভয়, লজ্জা, নির্ভরশীলতা কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রভাবের কারণে অনেক শিশু সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারে না। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত নিরাপদ পরিবেশে কথা বলা, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রাখা এবং দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ বাক্স ও নির্দিষ্ট যোগাযোগব্যক্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের সহজে দেখার মতো স্থানে অভিযোগ কমিটির যোগাযোগ নম্বর এবং শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্য প্রকাশ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০৯৮ শিশুদের সহায়তায় চালু একটি সরকারি হেল্পলাইন। শিশুদের নিরাপত্তা কিংবা নির্যাতনসংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তা চাওয়ার জন্য এ নম্বর ব্যবহার করা যায়।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিও শিক্ষার্থী নির্যাতন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। রাগের বশে শাস্তি দেওয়া, সবার সামনে অপমান করা, গালমন্দ করা কিংবা ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণের চর্চা বন্ধ করতে হবে। শ্রেণিকক্ষ ও আবাসিক পরিবেশে শিশুদের আচরণ সামলানোর অহিংস পদ্ধতি, নির্যাতনের ঝুঁকির লক্ষণ শনাক্ত করা, অভিযোগ পাওয়ার পর করণীয় এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখার বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
অতিরিক্ত কর্মভার, জনবলসংকট কিংবা আবাসিক তত্ত্বাবধানের দুর্বলতা নির্যাতনের অজুহাত হতে পারে না। তবে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে শিক্ষা বোর্ড, অধিদপ্তর, মাদ্রাসা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত পরিদর্শন, অভিযোগের নথি পর্যালোচনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া শিক্ষার্থী নির্যাতন প্রতিরোধে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা, সুরক্ষা কমিটি সক্রিয় রাখা, অভিযোগ তদন্ত এবং পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি কমিটিগুলো কার্যকরভাবে কাজ করছে কি না, অভিযোগকারীরা নিরাপদে কথা বলতে পারছেন কি না এবং কর্তৃপক্ষ সময়মতো ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আলিয়া ও কওমি—উভয় ধারার মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার ন্যূনতম মান নিশ্চিত করতে হবে।
মাদ্রাসার শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদার বিষয়টি উল্লেখ করে লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল বলেন, বহু শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান এবং সীমিত সম্পদে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। একজন শিক্ষকের অপরাধের দায় পুরো শিক্ষকসমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যেমন অন্যায়, তেমনি শিক্ষকসমাজের মর্যাদার অজুহাতে নির্যাতনের অভিযোগ অবিশ্বাস করাও অনুচিত।
তাঁর মতে, অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা স্পষ্ট করা এবং শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার মধ্য দিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব। অন্যায় আড়াল করলে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা হয় না; বরং মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
একটি সুস্থ শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হতে হবে নিরাপত্তা, জ্ঞান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিকতার ভিত্তিতে। অভিযোগের পর শিক্ষার্থীকে নীরব থাকতে বাধ্য করা, তদন্তের আগেই শিক্ষককে সামাজিকভাবে অপমান করা কিংবা একজনের অভিযোগের কারণে পুরো শিক্ষকসমাজকে সন্দেহের চোখে দেখা—কোনোটিই গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রয়োজন এমন ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থী নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারবে, নিরপেক্ষভাবে সত্য যাচাই হবে, দোষী ব্যক্তি আইনের মুখোমুখি হবেন এবং নির্দোষ ব্যক্তি ন্যায্য প্রতিকার পাবেন।
মাদ্রাসার মর্যাদা রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী নয়। বরং ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এ দুটি লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে শুধু নিন্দা কিংবা সাময়িক ক্ষোভ প্রকাশ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিরাপদ অভিযোগব্যবস্থা, নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ।
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুলের মতে, অপরাধ আড়াল না করা, নির্দোষকে অপমান না করা এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই শিক্ষকসমাজ ও মাদ্রাসার প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
লেখক পরিচিতি:
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (কৃষি), কেন্দ্রীয় কমিটি।
মন্তব্য করুন