মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে দেশের ৩০০ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ ফোরামের (জিসফ) উদ্যোগে ‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সরকারের জিরো টলারেন্স স্বাগত জানিয়ে আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০০ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। শতভাগ নির্মূল করা না গেলেও তাঁর নিজের এলাকায় মাদক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশ না হয়ে দলের নেতার ওপর আস্থা রাখতে হবে। সরকারের বয়স মাত্র আট মাস উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি সরকার পতনের ডাক দিলেই সরকারের পতন হবে না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়েননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের নির্যাতিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ফারুক।
তিনি আরও বলেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে। তবে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা বা গুজব ছড়ানো উচিত নয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান, মাদক নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মৎস্যজীবী দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, বিআইডব্লিউটিএ সিবিএর সভাপতি মাজহারুল ইসলাম এবং কৃষকদলের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান কামাল প্রমুখ।
জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ ফোরামের সভাপতি মনজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জিসফের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি আলী মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও নোমান হোসেন, অর্থবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, যুববিষয়ক সম্পাদক বরকত পাটোয়ারী, প্রচার সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক লিটন হোসেন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া ও মো. মনির হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জিসফ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শেখ শহীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন হোসেন, মো. আবু সায়েদ, মুরাদ হোসেন, আনিসুর রহমান, ফাহাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান ও বেল্লাল হোসেন; জিসফ ঢাকা মহানগর উত্তর কাফরুল থানার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন হাওলাদার; মিরপুর থানা সভাপতি ফয়েজ আহমেদ; লক্ষ্মীপুর সদর থানা পশ্চিম শ্রমিক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার এবং মতিঝিল থানা যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।
মন্তব্য করুন