অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 31, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাংবাদিক গ্রেফতার: প্রশ্নের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য তুলে ধরা একজন সাংবাদিকের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীকে নানাভাবে চাপ, হয়রানি, মামলা এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে—সাংবাদিক কি অপরাধী, নাকি জনগণের জানার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক, মতপ্রকাশ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪ গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করেছে। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রেস কাউন্সিলের প্রতিকারমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ফৌজদারি মামলার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।

এটি কেবল একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়; বরং জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকের কলমকে হাতকড়া পরিয়ে সত্যের প্রবাহ থামানো যায় না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, সত্যকে সাময়িকভাবে আটকে রাখা গেলেও তাকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। সংবাদপত্র সমাজের আয়না। সেই আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে কেউ অসন্তুষ্ট হলে আয়না ভেঙে ফেললে বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন হয় না।

বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রথমেই ব্যাখ্যা চাওয়া, নোটিশ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশেও সাংবাদিকতা-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার দাবি দীর্ঘদিনের।

প্রশ্ন থেকেই যায়—কোনো সংবাদ যদি সত্যিই অসত্য বা বিভ্রান্তিকর হয়, তবে তার প্রতিকার কি তথ্য-প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত, নাকি সাংবাদিককে গ্রেফতার করে?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর যদি সাংবাদিকরাই হয়রানি ও গ্রেফতারের শিকার হন, তাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ক্রমেই নিরুৎসাহিত হবে। এর ফলে লাভবান হবে দুর্নীতিবাজ চক্র, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং সর্বোপরি জনগণের তথ্য জানার অধিকার।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হালাল সনদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদ জানাল বিএসটিআই

1

প্রতিমন্ত্রীর সফরের দিনও অনুপস্থিত শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠেছে ন

2

ভারত-ইন্দোনেশিয়ার নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি

3

পীরগঞ্জে ২০৮ দুস্থ নারীর হাতে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন

4

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তড়িঘড়ি নয়, স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের প

5

ইউসিবির ডিএমডি হলেন শফিকুর রহমান ও রীদওয়ানুল হক

6

অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার ২ কোটি শিশু: ইউনিসেফ

7

রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে আরও এক বাংলাদেশি নিহত

8

রাজশাহীর কালাইরুটির স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, উচ্ছ্বা

9

ফুলবাড়ীতে ১৫ যুবক পেল ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ

10

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার আবেদন পর্যালোচনায় ভারত

11

তেঁতুলিয়ায় তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও তথ্য না পাওয়ার অভিযো

12

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

13

ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় এগিয়ে সোহাগ

14

বায়তুল মোকাররমে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ শুরু

15

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামোর নির্দেশ

16

বোচাগঞ্জে এনসিপি নেতার মামলায় ১১ আসামি

17

ফুলবাড়ীতে তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা

18

ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত

19

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

20