অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সিন্ডিকেটের কবলে পান রপ্তানি, হুমকিতে কোটি টাকার বাণিজ্য


বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পান রপ্তানিতে সিন্ডিকেট, স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এই অনিয়ম বন্ধ করে অবাধ পান রপ্তানি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে ‘কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব’।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই তারা সৌদি আরবে পান আমদানি করে আসছে। সৌদি বাজারে বাংলাদেশের উন্নতমানের পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতি’ নামধারী একটি চক্রের কর্মকাণ্ডে এ খাতটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

প্রতি ঝুড়িতে ৫০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই অসাধু চক্রটি প্রতি পান আমদানির বাস্কেট বা ঝুড়ির বিপরীতে ৫০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা দাবি করছে।

এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাধারণ পান রপ্তানিকারকদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জানানো হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি আমদানিকারকদের।

আমদানিকারকরা সতর্ক করে বলেন, চাঁদাবাজি ও রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি বন্ধ না হলে তারা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ থেকে পান আমদানি বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ হারাবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের প্রান্তিক পানচাষিরাও।

পান রপ্তানি আয় কমেছে ৩৪.২১ শতাংশ

সংগঠনটির দাবি, প্রতি চালানে নির্দিষ্ট সমিতির প্রশংসাপত্র ছাড়া পানের ‘বিল অব এক্সপোর্ট’ প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে না—জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এমন শর্তের সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্রটি সুবিধা নিচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পান রপ্তানিতে।

চিঠিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ পান রপ্তানি করে ৩২.৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল। পরের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সেই আয় কমে দাঁড়ায় ২১.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পান রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ৩৪.২১ শতাংশ।

সংকটে রপ্তানিকারক, কৃষক ও অর্থনীতি

বর্তমান পরিস্থিতির তিনটি প্রধান প্রভাব তুলে ধরেছে সংগঠনটি—

১. বৈধ রপ্তানিকারকরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং পান রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

২. ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক পানচাষিরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

৩. পান রপ্তানি থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি।

বিতর্কিত শর্ত সংশোধনের দাবি

জাতীয় স্বার্থে পান রপ্তানি খাতকে সচল রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি দ্রুত সংশোধন এবং ‘সমিতির সদস্যপদের বাধ্যবাধকতা’ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব।

একই সঙ্গে অসাধু চক্রের তৈরি করা কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

পত্রটিতে আমদানিকারকদের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরবের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী। এর অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

1

পীরগঞ্জে জুলাই শহিদ দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

2

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কারও একক পৈতৃক সম্পত্তি নয়: ইশরাক

3

সূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেন কমেছে

4

ঢাকাসহ ১১ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

5

পুতিন-কিমের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

6

পীরগঞ্জে ১৭ পিস ইয়াবাসহ সুমন আলী গ্রেপ্তার

7

৪৩তম বিসিএসের ২২৭ জনের প্রজ্ঞাপন হয়নি এখনো, রোববারের মধ্যে প

8

বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়তে চায়

9

দুয়ের অভিষেক, সাইবারির বদলে মরক্কোর একাদশে এল খানুস

10

থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপে ৮ বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যু

11

১৫ বছর পর শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, ঠাকুরগাঁওয়ে তিনজনের আমৃত্

12

তেঁতুলিয়া দাখিল মাদরাসায় কেউ পাস করেনি

13

চরমপন্থা প্রতিরোধে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ

14

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ বড় বাধা নয়: গয়েশ্বর

15

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

16

নতুন বাংলাদেশ গড়তে কৃষি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার: আ

17

আমার সিদ্ধান্তেই ইসরায়েল আরও শক্তিশালী — ট্রাম্প

18

তেঁতুলিয়ায় শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিএনপি নেত্রীকে

19

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নে কঠোর সরকার: তথ

20