ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, শুধু অনলাইনে সেবা চালু করলেই ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হয় না। নাগরিকের জন্য সরকারি সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হয়েছে, তার ভিত্তিতেই ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য মূল্যায়ন করতে হবে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি সরকারি সেবার কার্যকর রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোই ডিজিটাল রূপান্তরের মূল লক্ষ্য নয়; বরং এর মাধ্যমে নাগরিকের সেবা কতটা সহজ ও কার্যকর করা গেল, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘ইউএন গভর্ন্যান্স ইনোভেশন সামিট: অ্যাডভান্সিং ফিউচার-রেডি ইনস্টিটিউশনস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
অধিবেশনের ‘চ্যালেঞ্জিং কনভেনশনাল অ্যাপ্রোচ টু গভর্ন্যান্স ইনোভেশন অ্যান্ড অ্যান্টিসিপেটরি গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি প্রশাসনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দিতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে সরকারকে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো, প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহি নির্দিষ্ট করা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেন ফকির মাহবুব আনাম। এর মধ্যে রয়েছে—স্পষ্ট জবাবদিহিসম্পন্ন সক্ষম প্রতিষ্ঠান, আন্তঃসংযোগযোগ্য তথ্যব্যবস্থা ও কার্যকর সমন্বয় এবং দক্ষ জনবল।
মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে কর্মীদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য শক্তিশালী তথ্য ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং সহজলভ্য অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নাগরিকদের বাধ্য করা উচিত নয়। বরং সরকারি সেবাব্যবস্থাকেই নাগরিকদের প্রয়োজন ও সুবিধা অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে।
অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রী ছাড়াও লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশ নেন।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন পাবলিক সার্ভিস ও সোশ্যাল ইনোভেশনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার (এসএপিএসএসআই) উপ-চেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।